মঙ্গলবার, ০৪ মে ২০২১, ০৩:৪৬ অপরাহ্ন

নোটিশ :
সারাদেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সংবাদকর্মী নিয়োগ চলছে। বিস্তারিত জানতে কল করুন : ০১৯২৭৬১৬৪৬৩
সংবাদ শিরোনাম :
লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার পেলো ৩৬০ কর্মহীন পরিবার পরকীয়া সামাজিক না মানসিক রোগ? খাল দখল করে নির্মিত সাত অবৈধ দোকান ঘর উচ্ছেদ সন্দ্বীপে মরহুম আলহাজ্ব আজহার উদ্দিন মিয়ার হাতিয়াতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান হাতিয়াতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা হাতিয়া উপজেলা তে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কুরআন শরীফ বিতরণ নোয়াখালী জেলা সদরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া। শৈলকুপায় বৃষ্টির আশায় মাঠে নামাজ আদায় সংবাদ প্রকাশের পর ত্রাণ ও আর্থিক সহয়তা পেল জমজ তিন শিশুর বাবা ঝিনাইদহে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ
মরহুম আলহাজ্ব আজহার উদ্দিন মিয়ার হাতিয়াতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান

মরহুম আলহাজ্ব আজহার উদ্দিন মিয়ার হাতিয়াতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান

এম. এ. মোজাহিদ বিল্লাহ নোয়াখালী হাতিয়া থেকে:-

(হাতিয়ার শত মনীষী- হাতিয়ার বিশিষ্ট মানুষ, নামের ইংলিশ অাদ্যাক্ষর অনুযায়ী। সঙ্গে থাকুন।)

আলহাজ্ব আজহার উদ্দিন মিয়া: হাতিয়া দ্বীপের প্রখ্যাত দানবীর, সুযোগ্য জমিদার আজহার উদ্দিন মিয়া ১৯০০ সালে সুখচরের মফিজিয়া গ্রামে বিখ্যাত জমিদার পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। কালোত্তীর্ণ এ মহান পুরুষের পিতা ছিলেন আফাজ উদ্দিন মিয়া।
আর্থ-সামাজিক উৎকর্ষ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ধর্মচর্চা ও সমাজ সেবায় অতুলনীয় মানবতাবাদী এ জমিদার তথাকথিত জমিদারী প্রথাই পাল্টে দিয়েছেন।

দ্বীপ হাতিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে শত শত সাঁকো নিমার্ণ ছিল তারঁ নিয়মিত কাজের অংশ। আজকের প্রেক্ষাপটে সাঁকো নিমার্ণের গুরুত্ব হয়ত বুঝানো যাবে না। নদী-খাল আর বিল বেষ্টিত হাতিয়ায় আজ আমরা যে পুল আর কালভার্ট দেখি এগুলোতে পারাপারে তখন সাকোঁই ছিল ভরসা।

তাঁর পিতা আফাজ উদ্দিন মিয়া ও চাচা আলহাজ্ব মফিজুর রহমান যৌথভাবে হাতিয়াতে কিংবদন্তী তুল্য। পিতার সুযোগ্য পুত্র আজহার উদ্দিন মিয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মক্তব, রাস্তাঘাট ও গণকবর স্থাপনসহ অসংখ্য সামাজিক ও জনহিতকর কাজে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নিজেকে নিয়োজিত রাখেন।

তিনি তৎকালীন নোয়াখালী জেলা পরিষদের মেম্বার ছিলেন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।
নিজের জমির উপর দিয়ে বাথানখালী থেকে মফিজিয়া হয়ে সুখচর বাজার পর্যন্ত এবং নন্দ রোড হতে ওছখালী বাজার পর্যন্ত তাঁর এবং পরিবারের নিজস্ব মালিকানাধীন ভূমির উপর রাস্তা নির্মাণ করেন।

তিনি অধিকাংশ সময়েই ঘোড়ার গাড়ী, গরুর গাড়ীতে যাতায়াত করতেন। বলা হয়ে থাকে হাতিয়াতে রিকশার আগমনও তাঁর কল্যাণে। হাতিয়াতে আধুনিক বাহনের শুরু বিখ্যাত এ জমিদারের মাধ্যমেই।

হাতিয়া দ্বীপে প্রথম উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুদীর্ঘ ৩৫ বছর পর ১৯৪৮ সালে হাতিয়া দ্বীপের দ্বিতীয় উচ্চ বিদ্যালয় আফাজিয়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন প্রজা ও সমাজ হৈতষী এ জমিদার। তিনি আঠারোটি মসজিদেরও প্রতিষ্ঠাতা।

তাঁর লোকান্তরে তাঁর সুযোগ্য পুত্র এ. কে. এম নবীর উদ্দিন সফ্দার তাঁর নামে আজহারুল উলুম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। তিলোত্তমা হাতিয়া গ্রন্থের লেখক মোহাম্মদ আমীন মন্তব্য করেছেন “এই পরিবারের জন্ম না হলে হাতিয়া হয়ত আরো পঞ্চাশ বছর শিক্ষা ও সাংস্কৃতিতে পিছিয়ে থাকত।”

দ্বীপবাসীর এই মহান জমিদার ১৯৬৮ সালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর অবদান দ্বীপবাসীর কাছে চির অমর হয়ে থাকবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2020 DainikBanglarMukh.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com