শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ০৫:১৩ অপরাহ্ন
নোটিশ :
দৈনিক বাংলার মুখে আপনাকে স্বাগতম। বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন : ০১৯২৭৬১৬৪৬৩
শিরোনাম :
মাদক ও হরিণের চামড়া সহ হেলেনা জাহাঙ্গীর গ্রেপ্তার নৌকা ডুবে নিখোঁজের একদিন পর লাশ উদ্ধার হাতিয়াতে নতুন ওসির ( ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) যোগদান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সফিউল বারী বাবু ভাইয়ের ১ম মৃত্যু বার্ষিকীতে ভার্চুয়াল আলোচনা ও দোয়া। মরহুম শফিউল বাবুর স্মৃতি স্বরণে নোয়াখালী জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদকের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা কুমিল্লা বিভাগ হয়নি সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ঝিনাইদহে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় ৫ জন আহত কুতুবদিয়ায় বেড়িবাঁধ ভেঙে জোয়ারে পানিতে ১০ গ্রাম প্লাবিত। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়কে হরিনগর মোড়ে ট্রাকের ধাক্কায় নারীর মৃত্যু আ.লীগের নামে ৭৩ ভুঁইফোড় সংগঠন

মরহুম আলহাজ্ব আজহার উদ্দিন মিয়ার হাতিয়াতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান

দৈনিক বাংলার মুখ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় সোমবার, ৩ মে, ২০২১
  • ৫৩ বার পড়া হয়েছে

এম. এ. মোজাহিদ বিল্লাহ নোয়াখালী হাতিয়া থেকে:-

(হাতিয়ার শত মনীষী- হাতিয়ার বিশিষ্ট মানুষ, নামের ইংলিশ অাদ্যাক্ষর অনুযায়ী। সঙ্গে থাকুন।)

আলহাজ্ব আজহার উদ্দিন মিয়া: হাতিয়া দ্বীপের প্রখ্যাত দানবীর, সুযোগ্য জমিদার আজহার উদ্দিন মিয়া ১৯০০ সালে সুখচরের মফিজিয়া গ্রামে বিখ্যাত জমিদার পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। কালোত্তীর্ণ এ মহান পুরুষের পিতা ছিলেন আফাজ উদ্দিন মিয়া।
আর্থ-সামাজিক উৎকর্ষ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ধর্মচর্চা ও সমাজ সেবায় অতুলনীয় মানবতাবাদী এ জমিদার তথাকথিত জমিদারী প্রথাই পাল্টে দিয়েছেন।

দ্বীপ হাতিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে শত শত সাঁকো নিমার্ণ ছিল তারঁ নিয়মিত কাজের অংশ। আজকের প্রেক্ষাপটে সাঁকো নিমার্ণের গুরুত্ব হয়ত বুঝানো যাবে না। নদী-খাল আর বিল বেষ্টিত হাতিয়ায় আজ আমরা যে পুল আর কালভার্ট দেখি এগুলোতে পারাপারে তখন সাকোঁই ছিল ভরসা।

তাঁর পিতা আফাজ উদ্দিন মিয়া ও চাচা আলহাজ্ব মফিজুর রহমান যৌথভাবে হাতিয়াতে কিংবদন্তী তুল্য। পিতার সুযোগ্য পুত্র আজহার উদ্দিন মিয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মক্তব, রাস্তাঘাট ও গণকবর স্থাপনসহ অসংখ্য সামাজিক ও জনহিতকর কাজে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নিজেকে নিয়োজিত রাখেন।

তিনি তৎকালীন নোয়াখালী জেলা পরিষদের মেম্বার ছিলেন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।
নিজের জমির উপর দিয়ে বাথানখালী থেকে মফিজিয়া হয়ে সুখচর বাজার পর্যন্ত এবং নন্দ রোড হতে ওছখালী বাজার পর্যন্ত তাঁর এবং পরিবারের নিজস্ব মালিকানাধীন ভূমির উপর রাস্তা নির্মাণ করেন।

তিনি অধিকাংশ সময়েই ঘোড়ার গাড়ী, গরুর গাড়ীতে যাতায়াত করতেন। বলা হয়ে থাকে হাতিয়াতে রিকশার আগমনও তাঁর কল্যাণে। হাতিয়াতে আধুনিক বাহনের শুরু বিখ্যাত এ জমিদারের মাধ্যমেই।

হাতিয়া দ্বীপে প্রথম উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুদীর্ঘ ৩৫ বছর পর ১৯৪৮ সালে হাতিয়া দ্বীপের দ্বিতীয় উচ্চ বিদ্যালয় আফাজিয়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন প্রজা ও সমাজ হৈতষী এ জমিদার। তিনি আঠারোটি মসজিদেরও প্রতিষ্ঠাতা।

তাঁর লোকান্তরে তাঁর সুযোগ্য পুত্র এ. কে. এম নবীর উদ্দিন সফ্দার তাঁর নামে আজহারুল উলুম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। তিলোত্তমা হাতিয়া গ্রন্থের লেখক মোহাম্মদ আমীন মন্তব্য করেছেন “এই পরিবারের জন্ম না হলে হাতিয়া হয়ত আরো পঞ্চাশ বছর শিক্ষা ও সাংস্কৃতিতে পিছিয়ে থাকত।”

দ্বীপবাসীর এই মহান জমিদার ১৯৬৮ সালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর অবদান দ্বীপবাসীর কাছে চির অমর হয়ে থাকবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2021 dainikbanglarmukh
Theme Developed BY ThemesBazar.Com