সোমবার, ১০ মে ২০২১, ১১:০৩ পূর্বাহ্ন

নোটিশ :
সারাদেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সংবাদকর্মী নিয়োগ চলছে। বিস্তারিত জানতে কল করুন : ০১৯২৭৬১৬৪৬৩
সংবাদ শিরোনাম :
মা হওয়ার সিদ্ধান্ত একান্তই নারীর : মিথিলা হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন রিজভী পবিত্র লাইলাতুল কদর আজ ঈদের কেনাকাটা করতে মার্কেটে গিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার দুই কিশোরী শিবগঞ্জে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থ্যতা কামনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের দোয়া ও ইফতার মাহফিল টেকসই সামাজিক কল্যাণ সংগঠনের উপহার সামগ্রী বিতরণ সাধারণ মানুষের মাঝে আলফাডাঙ্গায় সাংবাদিক সেকেন্দারের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ইডেন কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব সানজিদা ইয়াসমিন তুলি’র পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা আবারও দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শাহজালাল মালের সুনাম নষ্টের পায়তারার অভিযোগ ঝিনাইদহ বারবাজারে বাসাবাড়িতে আগুন লেগে লাখ টাকার ক্ষতি
জমজ তিন শিশুকে বাঁচাতে অসহায় পিতার আর্তনাদ!

জমজ তিন শিশুকে বাঁচাতে অসহায় পিতার আর্তনাদ!

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি॥

জমজ তিন শিশু জন্ম নেওয়ার খবর পেয়ে ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদক ছুটে যায় ওই গ্রামে। চোখে পড়ে করুন এক দৃশ্য! বাড়ির ভিতরে ঢুকতেই নিটের এক খুপড়ি ঘরের বারান্দায় দেখা মেলে তিন শিশু ও তাদের দাদিকে। অসুস্থ্য মা শুয়ে আছে ঘরের ভিতরে। বাচ্চাগুলোকে নিয়ে খুবই মানতেবর জীবন যাপন করছে ওই পরিবারটি। সংসারে একমাএ উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আব্দুল করিম। বর্তমানে এই জমজ বাচ্চাদের খাবারের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রি-নান দুধ খাওয়ানো হচ্ছে। যার এক কৌটা দুধের দাম প্রায় ১হাজার টাকা। সরাদিনে ভ্যান চালিয়ে যে টাকা পায় তাই দিয়ে বাচ্চাদের দুধ ক্রয় এবং পরিবারের জন্য খাবার ও অসুস্থ্য স্ত্রীর জন্য ঔসুধ ক্রয় করতে অন্যের কাছে হাত পাত-তে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানায় জমজ পরিবার।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ৮নং পাগলাকানাই ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডর চরখাজুরা গ্রামের বাসিন্দা করিম আলী। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পেশায় তিনি একজন ভ্যান চালক। বাবা মারা যাবার পর বিধবা মা, স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তান নিয়ে ভ্যান চালিয়ে একটি টিনের খুপড়ি ঘরে কোন রকম দিনপাত করে আসছিলো। স্ত্রী আলোমতি, বড়মেয়ে কণা ও ছোট মেয়ে কণিকা। দুইটা মেয়ে থাকলেও ছেলে সন্তানের আশায় করিম দম্পত্বি আবারো পেটে সন্তান ধারণ করেন। দির্ঘ ৯মাস অপেক্ষার পর ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে গত ২৪শে মার্চ আলোমতির কোল জুড়ে তিনটি ছেলে সন্তান জন্ম গ্রহণ করেন। নাম রাখা হয় আহাদ, আরিফ ও আলিফ। মা অসুস্থ্য থাকায় তাকে চিকিৎসার জন্য রেখে শিশুদেরকে গ্রামের বাড়িতে দাদির কাছে পাঠানো হয়। দির্ঘ ১০দিন পর বাচ্চাদের দেখার জন্য ছুটে আসে অসুস্থ্য মা আলোমতি। বর্তমানে শিশু তিনটি সুস্থ্য থাকলেও তিন সন্তানের জননী আলোমতি এখনো অসুস্থ্য। একদিকে সন্তাদের খাদ্য দুধ ক্রয় অন্যদিকে অসুস্থ্য স্ত্রীর চিকিৎসা খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে ভ্যান চালক করিম।

মোঃ আব্দুল করিম ঢাকা পোস্টকে জানান, বিবাহের তিন বছরের ব্যবধানে দুইটি কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করে। একটি পুত্র সন্তানের আশায় আবারো স্ত্রী গর্ভধারণ করে। এবার একসাথে তিনটি পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন স্ত্রী আলোমতি। কিন্তু পুত্র সন্তানের স্বপ্ন পূরণ হলেও দুঃখজনক হলেও সত্য অভাবের এই সংসারে জমজ বাচ্চাতিনটি যেন এখন মরার উপরে খাড়ার ঘাঁ। গত ২৪ মার্চ ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে, আমাদের ঘরজুড়ে তিনটি সন্তান জন্মগ্রহণ করে। বাচ্চা তিনটি সুস্থ থাকলেও আলোমতি ভালো নেই। বাচ্চার মা অসুস্থ্য থাকায় বুকের দুধ পান করতে পরছে না। আবার দোকান থেকে দুধ কিনে খাওয়ানোর মত সামর্থ নাই। এই লকডাউনের মধ্যে ভ্যানে তেমন কোন ভাড়া পাইনা। তবে সমাজের যারা বিত্তবান বা এমপি ও সরকারি ভাবে যদি আমাকে সাহায্য বা সহযোগীতা করে তাহলে আমি অনেক উপকৃত হবো।

দাদি রহিমা বেগম ঢাকা পোস্টকে জানান, আল্লাহ আমাদের মন পরীক্ষা করবার জন্য এই সন্তানদের পাঠিয়েছে। অনেক বড়লোকের ঘরেও তো দিতে পারতো। আমি এই বয়সে দিন রাত এভাবে কত সময় তাদের সেবা দিতে পারি, আবার এই তিনটা বাচ্চা বাদেও আমরা ৫জন খানে আওয়ালা। অনেক টাকা দিনাদায়েক হয়ে অপরেশন করা হয়েছে। বাচ্চাগুলো ভালো আছে কিন্তু তার মা এখনো অসুস্থ্য। বাচ্চাদের বয়স এখন ২৪দিন। আমার ছেলে না পারছে বাচ্চাদের মুখে খাবার দিতে না পরছে বউমার চিকিৎসা খরচ বহন করতে।

প্রতিবেশি হালিমা বেগম ঢাকা পোস্টকে জানান, করিম একজন অভাবি মানুষ। তার ঘরে ছোটছোট দুইটা মেয়ে আছে। তারপরও আল্লাহ্ তার ঘরে একসাথে তিনটা ছেলে সন্তান দিয়েছে। বাচ্চা হবার পর কমিরমের বউ খুবই অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে। তারপরও এই তিনটি সন্তানের প্রতিদিন এক কৌটা করে দুধ কিনে খাওয়াতে হচ্ছে যার মূল্য প্রায় ১ হাজার টাকা। সে তার বউয়ের চিকিৎসা করবে! না তার বাচ্চাদের দুধ কিনে খাওয়াবে! না তার পরিবারের সবার মুখে খাবার তুলে দিবে। এমন অবস্থায় সমাজের বিত্ববান যদি তার একটু আর্থিক ভাবে সাহায্য করতো তাহলে হয়তো সে এই ছোট ছোট বাচ্চাদের দুধ কিনে খাওয়াতে পারতো।

জমজ সন্তানের মা মোছাঃ আলোমতি বেগম জানান, এই বাচ্চা তিনটা আমার পেটে আসার পর থেকেই খুব কষ্টে ছিলাম। সিজার করে বাচ্চা হবার পর অসুস্থ্য হয়ে পড়ি। আমি অসুস্থ্য থাকায়, বাচ্চাদের বাড়িতে রেখে আমাকে হাসপাতালে চিকিৎসা করে। বাচ্চাদের দেখার জন্য ১০দিন পর আমি বাড়িতে এসেছি। কেউ যদি বাচ্চাগুলো আমার কোলে তুলে দিচ্ছে তাহলে নিতে পারছি তাছাড়া আমার একা একা কোন ক্ষমতা হচ্ছে। আমার শাশুড়ি ও দুই মেয়ে মিলে বাচ্চাগুলো দেখাশুনা করছে। আমাদের পক্ষে বাচ্চাদের দুধ কিনে খাওয়ানো সম্ভব হচ্ছে না।

১নং চরখাজুরা ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ওয়াদুদ ঢাকা পোস্টকে জানান, গ্রামের করিমের ঘরে আল্লাহ্ জমজ তিনটি ছেলে সন্তান দিয়েছে। বর্তমানে করিমের পরিবারে এমনি একঅবস্থা সে দিন আনে দিন খাই। তারউপর তার এই জমজ তিন সন্তান তাদের প্রতিদিন ১হাজার টাকার দুধ লাগে। সেই সাথে তার বউটাও খুব অসুস্থ্য। আমাদের ইউনিয়নের নির্বাচিত মেম্বর চেয়ারম্যান যদি তার স্ত্রীকে যদি একটি মাতৃত্ব কালীন ভাতা করে দিতো তাহলে তারা কিছুটা হলেও উপকৃত হতো। আমরা গ্রামের মানুষ আমাদের সাদ্ধের মধ্যে তাকে উপকার করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী সেচ্ছাসেবক লীগের সাংগাঠনিক সম্পদক মোঃ আবু সাইদ বিশ^াস ঢাকা পোস্টকে বলেন, চরখাজুরা গ্রামের করিমের জমজ তিনটি ছেলে সন্তান হয়েছে। কিন্তু তার মিসেস এখনো অসুস্থ্য। তাকে যদি কোন সরকারি কিংবা বিত্তবানদের সহযোগীতা পেলে হয়তো তাদের জমজ বাচ্চাদের দুধ ও তার বউয়ের চিকিৎসা করাতে পারতো।

ঝিনাইদহ জেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ আব্দুল লতিফ ঢাকা পোস্টকে বলেন, পাগলাকানাই ইউনিয়নের চরখাজুরা গ্রামের আব্দুল করিমের আগে দুইটা মেয়ে ছিলো। তারপরও তাদের ঘরে জমজ তিনটি ছেলে সন্তান হয়। সে এতোই গরিব ভ্যান চালিয়ে তাকে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। তিনটা বাচ্চা জন্মদেওয়ার পরে মা খুবই অসুস্থ্য হয়ে যায়। তারপরে বাচ্চাদেরকে আলাদা করে, মাকে চিকিৎসা করানো হচ্ছে। আমরা সমাজসেবা অফিস সংবাদ পাবার পর হাসপাতালে যায়, সেখানে গিয়ে তাদের জন্য আমাদের ব্যাক্তিগত পক্ষথেকে এবং অফিসের পক্ষথেকে নগদ টাকা ও চিকিৎসার জন্য সহায্য সহযোগীতা করা হয়েছে। এছাড়াও অফিসিয়াল ভাবে যদি কোন সুযোগ থাকে তাহলে তাদেরকে আমরা সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করবো এবং সন্তানদের জন্যেও সহযোগিতা করবো।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2020 DainikBanglarMukh.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com