শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জনসংযোগে ব্যস্ত-৪নং স্বরূপপুর ইউনিয়নের নৌকা মনোনয়ন প্রত্যাশি বশির আহম্মেদ “স্মৃতিচারণ” ২য় শ্রেণীর দুই ছাত্রীকে যৌন হয়রানি অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে,শিক্ষক পলাতক! মহেশপুরে ইজিবাইক চালককে পিটিয়ে হত্যা ১৪/০৯/২০২১ তারিখ রাউজানে চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয় এর অভিযানে রাউজানে একাধিক মদের মামলার আসামী ১৫ লিটার মদ সহ গ্রেফতার ০১ জন, মামলা দায়েরঃ দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থার কর্মপ্রচেষ্টায় প্রাণী সুরক্ষাসেবা কার্যক্রম। জীবননগরে ওষুধের দাম বেশি নেওয়ার অভিযোগ !!! পাব কি ঠাঁই? সরকারি কর্মকর্তাদের ‘স্যার-ম্যাডাম’ বলার রীতি নেই প্রাথমিক বিদ্যালয় রিওপেনিং নিয়ে নোয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কৃর্তক আলোচনা

হাতিয়ার জনপ্রিয় অনলাইন সংগঠন #দ্বীপাঞ্চল_হাতিয়া” ও দ্বীপ দরদি কয়েকজন মানবিক সূর্যসন্তানের আর্থিক সহযোগিতায় বাসস্থান পেল আরেকটি অসহায় পরিবার।

দৈনিক বাংলার মুখ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২০
  • ১০৭ বার পড়া হয়েছে

এম এ মুজাহিদ বিল্লাহ :

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার, সোনাদিয়া চৌরাস্তা ০৭ নং ওয়ার্ডের মোঃ মোস্তফার মেয়ে তাছলিমা আক্তার। চার বছর আগে তার স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যায়। তারপর থেকে জীবনের সাথে অনেকটা যুদ্ধ করেই কোনরকমে দিনানিপাত করতেছেন।

তাসলিমা আক্তারের বাবারও অনেকটা দৈন্যদশা অবস্থা। সারাটা জীবন মানুষের খেত খামারে কাজ করে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন তিনি। তার ওপর ৩ ছেলে মেয়ে প্রতিবন্ধী হওয়ার অনেকটা মরার ওপর খাঁড়ার ঘা অবস্থা। হতদরিদ্র মানুষটা পরিবারের এতগুলো সদস্যদের কোন রকমে দু’মুঠো অন্ন জোগাড় করতেই যেন জীবন যাই অবস্থা।

তাছলিমা আক্তার আর্থিক দৈন্যতা আর শারীরিক অসামর্থ্যতার কারণে খড়কুড়ো আর পলিথিন মুড়িয়ে ভাঙ্গাচোরা একটা কুড়ঘরের মধ্যে বৃষ্টিতে ভিজে,রোদে পুড়ে মানুষ হয়েও পোকামাকড়ের ন্যায় জীবন যাপন করে আসছে বছরের পর বছর।

একদিন নিজের একটা ঘর হবে,স্রেফ এই স্বপ্ন দেখতে দেখতে জীবনের এই পর্যায়ে এসে মহিলাটি যেন অনেকটা নীরব, নিস্তব্ধ হয়ে গেছেন। একটা ভালো ঘরে ঘুমানোর স্বপ্ন দেখে দেখে নির্ঘুম কাটিয়েছেন কতটা রাত, স্বার্থপর ও আত্মকেন্দ্রিক এই সমাজ ব্যবস্থায় তার খবর কে রেখেছে কবে?

বর্ষা যায় শীত আসে, শীত যায় গ্রীষ্ম আসে, ঋতুর এই পালাবদল তাছলিমার জীবনে ভয়ানক দুর্দশা ছাড়া অন্যকিছু বহে আনেনা।

কোন এক গভীর রজনীতে তন্দ্রাচ্ছন্ন তাছলিমা হয়তো স্বপ্ন দেখেছিল একটি বাসযোগ্য ঘরের, কিংবা ঘোরের মাঝে সে হয়তো নিজের অশান্ত মনকে শান্তনা দিত
এই রাত একদিন কেটে যাবে, ভোরের আলোয় আলোকিত হবে তাদের সংসার, অথচ বাস্তব জীবনে সেই ভোর আর কোনদিন তার জীবনে আসেনা। রোগ -শোক, অভাব – অনটন, ক্ষুদা – মন্দা আর সীমাহীন দারিদ্র্যতা তার যাপিত জীবনে এমনভাবেই আষ্টেপৃষ্ঠে থাকে, একেকটা ভোর রাতের অন্ধকারের চেয়েও আরো গভীর অন্ধকার নিয়ে হাজির হয়।

পৃথিবীতে কতো কতো প্রাসাদ, চারদিকে কতো কতো চাকচিক্য আর বিলাসিতা অথচ তাছলিমাদের নিশ্চিন্তে থাকার মত সামান্য একটা ঘর নাই।

তাছলিমা আক্তারের এমন বিভীষিকাময় অবস্থার কথা জানতে পেরে হাতিয়ার বৃহত্তম ও জনপ্রিয় মানবিক সংগঠন ‘দ্বীপাঞ্চল হাতিয়া এবং দ্বীপ প্রেমি কয়েকজন সূর্য সন্তান অসহায় মেয়েটের স্বপ্নের সারথী হয়ে পাশে এসে দাড়িয়েছেন।

সেচ্ছাসেবী সংগঠনটি তাকে পুরাতন কুড়ো ঘরের পরিবর্তে একটি পরিপূর্ণ দুইরুমের টিনের ঘর তৈরি করে দিয়ে স্বপ্ন পুরণ করায় জীবনের শেষ অবস্থায় এসে অনেকটা সূখের হাসি হাসতে দেখা গেছে তাকে।

উল্লেখ্য, দ্বীপাঞ্চল হাতিয়া সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ অবধি হতদরিদ্র ও নিপীড়িত মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে অবিরাম কাজ যাচ্ছে।।

‘দ্বীপাঞ্চল হাতিয়া’একটি সূদুরপ্রসারী প্রকল্প হাতে নেয়, দ্বীপের ঘরহীন মানুষদের খুঁজে খুঁজে বের করে তাদেরকে একটি নিরাপদ আবাসস্থল তৈরি করে দিচ্ছে সংগঠনটি।

ইতিপূর্বে হাতিয়াতে আরো ৫ টি গৃহহীন পরিবারকে অনুরুপভাবে ঘর তৈরি করে দিতে সক্ষম হয়েছে সংগঠনটির সদস্যদের আন্তরিক প্রচেষ্টায়।

সম্প্রতি অসহায় তাছলিমা আক্তারকে প্রকল্প ৬ এর ঘরটি আনুষ্ঠানিক ভাবে হস্তান্তর করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সোনাদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। জনাব নুরুল ইসলাম এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন আলোর মশাল এর সাধারণ সম্পাদক, গিয়াস উদ্দিন সোহেল।

আমি জানি ‘পৃথিবীতে মানুষের নিজের একটা ঘর থাকার চাইতেও আনন্দের আর কিছুই নেই। একটি অসহায় পরিবার আজ থেকে শান্তিতে ঘুমাতে পারবে এই বোধ, এই উপলব্ধি আমাদের মনকে আনন্দ দেয়।আমি অবিভূত এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি দ্বীপাঞ্চল হাতিয়া এডমিন প্যানেল এবং যারা দানের হাতকে প্রসারিত করেছেন তাদের সকলকে।

আসলে সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে অচিরেই হাতিয়ার সব গৃহহীনদের পুনর্বাসন করা সম্ভব হবে ইনশাআল্লাহ।

দ্বীপাঞ্চল হাতিয়া অনলাইন গ্রুপের ডাকে সাড়া দিয়ে ‘বাংলাদেশ কুটির দ্বীপাঞ্চল হাতিয়া’ প্রকল্পে যারা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে এগিয়ে এসেছেন আমরা আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আশাকরি আগামীতেও আপনারা আমাদের পাশে থাকবেন।
আমিরুল মোমিন বাবলু ফাউন্ডেশন আলহাজ্ব মুস্তাফিজুর রহমান ফাউন্ডেশন সব সময় দ্বীপাঞ্চল হাতিয়া অনলাইন গ্রুপটি পাশে মনবতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

“খুচরা পয়সা গুলো জড়ো কর।
বাংলাদেশ কুটির গড়ে তোল।”
এই স্লোগানে আমরা এগিয়ে যেতে চাই বহু দূর।
প্রিয় বন্ধুরা চাইলে আপনিও আমাদের সহযোগী হতে পারেন।
লেখক কলম সৈনিক মাইন উদ্দিন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো পোস্ট
© All rights reserved © 2021 dainikbanglarmukh
Theme Developed BY ThemesBazar.Com