সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৪ নং স্বরুপপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা বশির আহম্মেদ কে চেয়ারম্যান হিসাবে দেখতে চায় এলাকাবাসী। মহেশপুরে ৪ নং স্বরুপপুর ইউনিয়নের, সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসার আর এক নাম  বশির আহম্মেদ। মহেশপুর সীমান্তে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করায় আটক ১১ আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জনসংযোগে ব্যস্ত-৪নং স্বরূপপুর ইউনিয়নের নৌকা মনোনয়ন প্রত্যাশি বশির আহম্মেদ “স্মৃতিচারণ” ২য় শ্রেণীর দুই ছাত্রীকে যৌন হয়রানি অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে,শিক্ষক পলাতক! মহেশপুরে ইজিবাইক চালককে পিটিয়ে হত্যা ১৪/০৯/২০২১ তারিখ রাউজানে চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয় এর অভিযানে রাউজানে একাধিক মদের মামলার আসামী ১৫ লিটার মদ সহ গ্রেফতার ০১ জন, মামলা দায়েরঃ দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থার কর্মপ্রচেষ্টায় প্রাণী সুরক্ষাসেবা কার্যক্রম। জীবননগরে ওষুধের দাম বেশি নেওয়ার অভিযোগ !!!

টাঙ্গাইলের রসুলপুরে শিক্ষক দম্পতি হত্যা মামলায় ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড;

দৈনিক বাংলার মুখ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৯৪ বার পড়া হয়েছে

 

আতিকুর রহমান(আতিক)
জেলা প্রতিনিধি,টাংগাইলঃ
টাঙ্গাইলের রসুলপুরের বাছিরন নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অনিল কুমার দাস ও তার স্ত্রী কল্পনা রানী দাসের হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন মহামান্য আদালত।দ্রুত বিচার ট্রাইবুন্যাল আদালতের বিজ্ঞ বিচারক সমস্ত স্বাক্ষী প্রমাণের ভিত্তিতে এ রায় প্রদান করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো, নিহত শিক্ষক অনিল কুমার দাসের বৈমাত্রেয় ভাই স্বপন কুমার দাস (৪৫), খোকন ভূইয়া (৪৮), ফরহাদ হোসেন (৩৮), শয়ান (৪০) মঞ্জুরুল ইসলাম মিঞ্জু (৩৩) ও জাহিদ।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়,২০১৭ সালের ২৬ জুলাই রাতের কোনো এক সময় অনিল কুমার দাস ও তার স্ত্রী কল্পনা রানী দাসকে দুর্বৃত্তরা শ্বাসরোধ হত্যা করে গলায় ইটের বস্তা বেঁধে বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের খোলা ক‚পে ফেলে রেখে যায়।পরদিন দুপুরে পুলিশ তাদের লাশ উদ্ধার করে।

পরে ২৭ জুলাই নিহতের ছেলে নির্মল কুমার দাস বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

সে সময় টাঙ্গাইলের নবাগত পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় টাঙ্গাইলে সদ্য যোগদান করেছেন।তখন থেকেই চাঞ্চল্যকর এই জোড়া হত্যার প্রাধান্য দিয়ে তদন্ত শুরু করেন।
পরে ১২ মে ডিবি থেকে মামলাটি স্থানান্তর করে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউর রহমানকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

এ ছাড়া পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি তদন্ত সহায়ক কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়।
ওই কমিটি ১২ মে এই শিক্ষক দম্পতি হত্যার জড়িত থাকার অভিযোগে রসুলপুরের আবদুস ছালামের ছেলে জাহিদুল ইসলাম এবং হাফিজ উদ্দিনের ছেলে ফরহাদকে আটক করে।
পুলিশ তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে ১৩ মে টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রুপম কুমার দাসের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।এই হত্যাকাণ্ডে তারা ছয়জন অংশ নেয় বলে স্বীকার করেন।

এ মামলায় গ্রেফতার হওয়া রসুলপুর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে জাহিদুল ইসলাম (৩২) এবং পার্শ্ববর্তী শালিনা গ্রামের মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. ফরহাদ (৩৩) হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।
পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় তার সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এতথ্য জানান।

পুলিশ সুপার জানান, গত ১২ মে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে জাহিদুল ও ফরহাদকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের ব্যাপক
জিজ্ঞাসাবাদে তারা শিক্ষক অনিল কুমার দাস ও তার স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।
ফলে ১৩ মে তাদেরকে বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করা হয়।তারা বিচারিক হাকিমের কাছে হত্যার ঘটনার জবানবন্দি দেন।জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম রূপম কুমার দাস তাদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন।

পুলিশ সুপার জানান, জবানবন্দিতে জাহিদুল ও ফরহাদ জানিয়েছেন, শিক্ষক অনিল কুমার দাসের পাছবিক্রমহাটি মৌজার ৬০ শতাংশ জমি লিখে নেওয়ার জন্য তার বৈমাত্রেয় ছোট ভাই স্বপন কুমার দাস স্ট্যাম্প প্রস্তুত করেন।

এই স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য স্বপন ওই এলাকার জাহিদ, ফরহাদ, খোকন ভূইয়া (৪৮) ও মঞ্জুরুল ইসলাম মিঞ্জুর (৩৩) সঙ্গে আলোচনা করেন।

স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিতে পারলে স্বপন তাদের নগদ পাঁচ লাখ টাকা এবং জমি বিক্রির পর অর্ধেক মূল্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

ঘটনার দিন স্বপন তার পাঁচ সহযোগীসহ শিক্ষক অনিল কুমার দাসের ঘরে ঢোকেন। তারা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দেওয়ার জন্য অনিল কুমার দাসকে চাপ দেন।

কিন্তু তিনি স্বাক্ষর করতে রাজি না হওয়ায় স্বপন বালিশ চাপা দিয়ে তাকে হত্যাকরেন।

এ সময় জাহিদ, ফরহাদ, খোকন ও মিঞ্জু অনিল কুমার দাসের হাত-পা চেপে ধরেছিলেন।

এ ঘটনা দেখে ফেলায় অনিল কুমার দাসের স্ত্রী কল্পনা রানী দাসকেও একইভাবে হত্যা করা হয়।

পরে তাদের দুজনের মরদেহের সঙ্গে ইট বেঁধে সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় জড়িত খোকন ভূইয়া ও মঞ্জুরুল ইসলাম মিঞ্জুকে গত ১৪ মে পুলিশ গ্রেফতার করে।

তাদের দুজনকে পরদিন আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হলে আদালত তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।পুলিশ জানিয়েছে, স্বপন কুমার দাসসহ অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ সুপার জানান, মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছেন টাঙ্গাইল সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউর রহমান।

চাঞ্চল্যকর এ মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের জন্য একটি সহায়ক কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আহাদুজ্জামানকে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- পরিদর্শক শ্যামল দত্ত, উপ-পরিদর্শক হাফিজুর রহমান, উপ সহকারী পরিদর্শক হাফিজুর রহমান এবং কনস্টেবল শামসুজ্জামান।

নিহতের ছেলে এ মামলার বাদী নির্মল কুমার দাস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

 

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো পোস্ট
© All rights reserved © 2021 dainikbanglarmukh
Theme Developed BY ThemesBazar.Com