মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মহেশপুরে ৪ নং স্বরুপপুর ইউনিয়ন এর মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী দিপু স্বরুপপুর ইউনিয়নের গরীব-দুঃখী মানুষের আস্থার ঠিকানা বশির আহম্মেদ ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়েই হলেন ইউপি চেয়ারম্যান, স্ত্রীও করছেন সরকারি চাকুরী উবার-পাঠাও চালকদের ধর্মঘটের ডাক খুলনায় করোনায় উপসর্গে নবনির্বাচিত ইউপি সদস্যের ইন্তেকাল ৪ নং স্বরুপপুর ইউনিয়নের যুবসমাজের আইডিয়াল – বশির আহম্মেদ আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৪ নং স্বরুপপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা বশির আহম্মেদ কে চেয়ারম্যান হিসাবে দেখতে চায় এলাকাবাসী। মহেশপুরে ৪ নং স্বরুপপুর ইউনিয়নের, সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসার আর এক নাম  বশির আহম্মেদ। মহেশপুর সীমান্তে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করায় আটক ১১ আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জনসংযোগে ব্যস্ত-৪নং স্বরূপপুর ইউনিয়নের নৌকা মনোনয়ন প্রত্যাশি বশির আহম্মেদ

টাঙ্গাইলে মধুপুরের ঐতিহ্যবাহী আনারস এবার বিষমুক্ত,ক্রেতারা ভিষণ খুশি;

দৈনিক বাংলার মুখ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২০
  • ৯২ বার পড়া হয়েছে

 

আতিকুর রহমান(আতিক) জেলা প্রতিনিধি,টাংগাইলঃ
টাঙ্গাইলের মধুপরের ঐতিহ্যবাহী আনারসের নাম শুনলেই এক সময় মানুষ বলত,মধুপুরের মধু রস। কিন্তু বিষাক্ত রাসায়নিক,ফরমালিন অার হরমোনের ব্যবহারের কারণে ভোক্তাগণ এ অানারসের প্রতি অাগ্রহ দিন দিন হারিয়ে ফেলে যখন অানারসের প্রতি অনাস্থা পোষন করে যাচ্ছিলেন,ঠিক সেই সময় কয়েকজন শিক্ষিত ও সমাজের উপর প্রতিশ্রুতিশীল যুবক এগিয়ে আসে রাসায়নিক ও হরমোনবিহীন আনারস চাষ করে আনারসের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে।

ফলে মধুপুরের ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু জলডুগি ও ক্যালেন্ডার জাতের আনারস চাষে এক বিপ্লব শুরু হতে যাচ্ছে। দাম একটু বেশি হলেও ক্রেতারা এখন সচেতন। উৎপাদক-ভোক্তা সচেতনায় মধুপুরের আনারস তার হারোনো গৌরব ফিরে পেতে যাচ্ছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সমাজের সচেতন মহল।

আর এই বিপ্লবের অগ্রদূত হলেন, মধুপুর উপজেলার গারোবাজারের ছানোয়ার হোসেন ও মহিষমারা ইউনিয়নের হলদিয়া গ্রামের আনারস চাষী মো. নজরুল ইসলাম। তারা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় পৌঁছে দিচ্ছে বিষমুক্ত রাসায়নিক মুক্ত নজরুল, ছানোয়ারের আনারস।

আনারস চাষী নজরুল ইসলাম মনে করেন, বিষমু্ক্ত আনারস চাষাবাদ অনৈতিক, জনস্বাস্থ্যে এবং পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য রক্ষায় গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। তাই তিনি চাকুরির পাশাপাশি নিজের জমিতে চাষ করেছেন জৈব সার প্রয়োগ করে দুই জাতের আনারস।

তিনি অারো বলেন, অামি রাইপেন নামক বিষাক্ত কেমিক্যালও ব্যবহার করি নাই।

তবে তিনি অভিযোগের মাধ্যমে জানান, বেশ দীর্ঘ সময় ধরেই মধুপুরের আনারস চাষীরা কখনও লোভে পড়ে, কখনও অসাধু ব্যবসায়ী বেপারীদের খপ্পরে পড়ে একাধিক জাতের আনারস চাষে নানা রাসায়নিক ব্যবহার করে আসছেন।কিন্তু অামি লোভী নই।

তাই এ বছর বিষমুক্ত ও রাসায়নিক মুক্তভাবে আনারস চাষে বিনিয়োগ করেছেন তিন লাখ টাকা। আশা করছেন তার বাগানের ফল ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে পারবেন। তিনি সামনের বছরে এই চাষ আরও বৃদ্ধি করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মধুপুরে বিষমুক্ত আনারস চাষের অগ্রদূত ছানোয়ার হোসেন বলেন, অামিও একজন উচ্চ শিক্ষিত আনারস চাষী। অামি তাদের সচেতনতার জন্য পরামর্শ দিচ্ছি তারা আমাকে দেখে ও চাহিদার কারণে অনেকেই উৎসাহিত হয়েছে। ফলে তারা আনারস চাষ করে ভাল দামও পাচ্ছেন।

নিরাপদ খাদ্য আন্দোলনের তরুণ শিক্ষিত কর্মী ও নিরাপদ খাদ্য বিপণনের পথিকৃৎ টাঙ্গাইলের আওয়াল মাহমুদ জানান, বিষ ও কীটনাশকমুক্ত আনারসের চাহিদা ব্যাপক। এতে আমি যেমন লাভবান হচ্ছি, তেমনি চাষীরাও লাভবান হচ্ছেন। আর ভোক্তারা পাচ্ছেন নিরাপদ খাদ্য। তিনি আরো জানান, আমি এবার ৫০ হাজার জলডুগি এবং ২০ হাজার ক্যালেন্ডার জাতের আনারস ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করেছি।

তিনি আরো জানান, হরমোন ও রাইপেনযুক্ত আনারস যেখানে ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হয়, সেখানে বিষমুক্ত জলডুগি আনারস ৫০ টাকা এবং ক্যালেন্ডার আনারস ৭০-৮০ টাকায় নির্দ্বিধায় বিক্রয় করা যায়। এটি ক্রেতাদের ইতিবাচক মানসিকতা।

মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, মধুপুর অঞ্চলে প্রায় দুই লাখ টন বিভিন্ন জাতের আনারস চাষ হয়। সাড়ে ছয় হাজার হেক্টর জমিতে প্রতি বৎসর আনারস চাষ হয়। এছাড়া সংলগ্ন ঘাটাইলের কিছু এলাকায় আনারস চাষ হয়।

তিনি বলেন, আগের চেয়ে বর্তমানে ক্ষতিকারক রাসায়নিক ও কীটনাশক ব্যবহার অনেক কমে আসছে। মধুপুর অঞ্চলে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের উদ্যোগে আনারস ভিত্তিক খাদ্য শিল্প স্থাপনের কার্যক্রম গৃহীত হলে চাষী এবং জনগন ব্যাপক উপকৃত হবে। এছাড়াও অবকাঠামোমূলক উন্নয়ন আনারস চাষে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

আনারস ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা বলেন,এবার অানারস কিনে নিয়ে পরিবার মিলে খেতে পারবো। কারন,এবার চাষীরা আনারসে বিষ দেয়নি। তাই আমরা খুশি।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো পোস্ট
© All rights reserved © 2021 dainikbanglarmukh
Theme Developed BY ThemesBazar.Com