শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জনসংযোগে ব্যস্ত-৪নং স্বরূপপুর ইউনিয়নের নৌকা মনোনয়ন প্রত্যাশি বশির আহম্মেদ “স্মৃতিচারণ” ২য় শ্রেণীর দুই ছাত্রীকে যৌন হয়রানি অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে,শিক্ষক পলাতক! মহেশপুরে ইজিবাইক চালককে পিটিয়ে হত্যা ১৪/০৯/২০২১ তারিখ রাউজানে চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয় এর অভিযানে রাউজানে একাধিক মদের মামলার আসামী ১৫ লিটার মদ সহ গ্রেফতার ০১ জন, মামলা দায়েরঃ দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থার কর্মপ্রচেষ্টায় প্রাণী সুরক্ষাসেবা কার্যক্রম। জীবননগরে ওষুধের দাম বেশি নেওয়ার অভিযোগ !!! পাব কি ঠাঁই? সরকারি কর্মকর্তাদের ‘স্যার-ম্যাডাম’ বলার রীতি নেই প্রাথমিক বিদ্যালয় রিওপেনিং নিয়ে নোয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কৃর্তক আলোচনা

সন্দ্বীপে সরকারী বন্ধ এম্বুলেন্স ভাড়া দিয়ে ৬৩ লক্ষ টাকা মেরে দেওয়ার অভিযোগ ডা.করিমের বিরুদ্ধে

দৈনিক বাংলার মুখ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৩১ মে, ২০১৯
  • ২৩৩ বার পড়া হয়েছে

 

ক্রাইম রিপোর্টারঃ

রক্ষক যখন ভক্ষক হয় তখন আর করার কিছু থাকেনা সাধারণ জনগণের।
পর্ব—০১

গত পাঁচ বছর ধরে অননুমোদিত ভাবে ভাড়ায় চলার পর যাত্রা থামলো সন্দ্বীপের সরকারী এয়ারকন্ডিশন্ড ল্যান্ড এ্যাম্বুলেন্সটির!

জনৈকের অভিযোগের ভিত্তিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী মৌখিক নির্দেশে , উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ ফজলুল করিমকে জরুরী ভিত্তিতে এম্বুল্যান্সটি না চালানোর তাগিদ দেন। ফলে গত এপ্রিলের মাঝামাঝি ,২০১৯ থেকে এ এ্যাম্বুলেন্সটি ব্যক্তিগত পর্যায়ে সার্ভিস দেওয়ার জন্য রাস্তায় বের হওয়া বন্ধ করা হয়।

ড্রাইভার না থাকায় এটি গ্যারেজে বন্দী থাকার কথা থাকলেও ২০১৪ সাল থেকে প্রায় পাঁচ বছর ধরে আন অফিশিয়ালী এটি ব্যবসায়ীকভাবে রোগী ও লাশ পরিবহনের কাজে ব্যবহার হয়ে আসছে। চালক ছিলেন হারামিয়া ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের নৈশ প্রহরী মোঃ ফারুক। দূরত্ব অনুযায়ী প্রতিটি ট্রিপে কমপক্ষে দেড় হাজার টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়া হতো। রোগী ও লাশ পরিবহনে প্রতিদিন ৩ থেকে ৫ টি ট্রিপ চলতো। একেকটি ট্রিপে ড্রাইভারকে ৫০০ টাকা করে এবং প্রতি ট্রিপে ৩০০ টাকার জ্বালানী খরচ বাদে বাকী টাকা জমা হতো অফিসের প্রধান সহকারীর দায়িত্বে থাকা অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ( পরবর্তীতে ক্যাশিয়ার পদে উন্নীত) শিরিন আক্তারের কাছে।

গত পাঁচ বছরে কি পরিমান টাকা জমা হয়েছে তা জানা যায়নি এখনো। কিন্তু পরিবর্তন হয়েছে ক্যাশিয়ার শিরিন আক্তারের জীবন মান। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে সমপ্রতি ১৩ লক্ষাধিক টাকায় জায়গা কিনেছেন, স্বামী কাজী ফরিদকে নতুন গাড়ি কিনে দিয়েছেন যা দিয়ে হাসপাতালে একজন অফিস কর্মকর্তার মতো অবাধে চলাফেরা করেন,অফিশিয়াল বিভিন্ন ব্যাপারে নাক-গলান, সন্দ্বীপে বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আনন্দ পাঠশালাতে ব্যয়বহুল খরচে লেখাপড়া করান দুই মেয়েকে। আত্মীয় স্বজনে ভরপুর থাকে হাসপাতাল এলাকার ভেতরে স্টাফ কোয়াটারে।
হিসেব করে দেখা গেছে, প্রতিদিন গড়ে তিনটি ট্রিপ এবং প্রতি ট্রিপ ২ হাজার টাকা করে হিসেব করলে দৈনিক ৬ হাজার টাকা করে আয় হতো। প্রতি ট্রিপে ড্রাইভারের ৫ শ টাকা এবং জ্বালানী ৩ শ টাকা ও অন্যান্য খরচ বাবদ দৈনিক ২৫০০ টাকা বাদে বাকী প্রায় ৩৫০০ টাকা হিসেবে জমা হলে প্রতি মাসে প্রায় ১০৫০০০ টাকা জমা হওয়ার কথা। সেই হিসেবে বছরে ১২,৬০,০০০ টাকা হলে ৫ বছরে ৬৩,০০০০০ টাকা তহবিল হওয়ার কথা।
এ্যম্বুলেন্স দিয়ে আয়কৃত টাকা খরচ বাদে স্বাস্থ্য বিভাগের রোগী কল্যাণ তহবিলে জমা হবার কথা বলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ ফজলুল করিম উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বিহীন এ কার্যক্রম চালু রাখেন। ক্যাশিয়ার শিরিন আক্তার প্রতিদিনের আয়কৃত টাকা কোন রেজিস্টারে মেন্টেইন না করে নিজের কাছে হ্যান্ডক্যাশ রাখায় অনিয়মের অভিযোগ এলে সাময়িকভাবে এ হিসাবটি ২০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ সায়েফ উদ্দিন সোহাগের কাছে দৈনিক হিসাবটি লিপিবদ্ধ করান কিছুদিন। তখনও ক্যাশ রয়ে যায় শিরিন আক্তারের কাছে। কিন্তু হিসাব বহির্ভূত পুরা টাকা আত্মসাৎ করতে না পারার কারণে চালক নৈশপ্রহরী ফারুককে এ্যাম্বুলেন্সের চাবি দিতে গড়িমসি করে এবং একপর্যায়ে তা বন্ধ রাখার জন্য ক্যাশিয়ার শিরিন ও তার হাজব্যান্ড কাজী ফরিদসহ ডাঃ করিম সাহবকে প্রভাবিত করেন। ষড়যন্ত্র বুঝতে পেরে ডাঃ সোহাগ হিসাব রাখা বন্ধ করে দেন। ফলে হিসাব পূনরায় শিরিনের কাছে চলে গেলে ডাঃ করিম আবার গাড়ি চালানোর অনুমতি দেন এবং তা চলতে থাকে চলতি ১৫ ই এপ্রিল, ২০১৯ সাল পর্যন্ত। উল্লেখ্য, কাজী ফরিদ একসময় সন্দ্বীপের দক্ষিনে নিজ এলাকায় ব্যবসা করলেও তার স্ত্রী ক্যাশিয়ার শিরিন কর্তৃক এ্যাম্বুলেন্সের নগদ আয়কে নিয়মিত বুঝে নেওয়ার জন্য ব্যবসা ছেড়ে চলে আসে। সরকার দলের বিভিন্ন উপদলের সাথে ভাল ভাব রেখে এবং এর প্রভাব দেখিয়ে তিনি ডাঃ করিম সাহেবকেও অনেকটা চাপে রেখেছেন বলে বিভিন্ন ভাবে প্রকাশ পায়। আশ্চর্যের বিষয় হলো এ্যাম্বুলেন্সটি প্রায় ১৫ বছর আগে সন্দ্বীপ আনলেও এখন রেজিস্ট্রেশন হয়নি বলে জানা গেছে।

যেহেতু সরকারী হিসেবে এ এ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার নেই তা চলার কথা না , জ্বালানীর বরাদ্দ নেই, লগবুক নেই, অতএব অননুমোদিতভাবে এ গাড়ী ভাড়ায় চালানো সম্পূর্ণ অবৈধ এবং বেআইনি। ব্যক্তিগত লাভের জন্য সরকারী সম্পদ ব্যবহার করে “রোগীকল্যাণ তহবিল” সংগ্রহের নাম করে প্রতারণামূলকভাবে গত পাঁচ বছরে যে বিশাল অংকের টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব হওয়া দরকার।

চমকপ্রদ ব্যাপার হচ্ছে এ এম্বুলেন্স চালানো বন্ধের নির্দেশ হওয়ার দু’ দিন পরেই চালক নৈশপ্রহরী লাভজনক এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস অব্যাহত রাখার জন্য ব্যক্তিগতভাবে মাইক্রো কিনে তা এ্যাম্বুলেন্সে রুপান্তর করে সার্ভিস অব্যাহত রাখে এবং এতে ডাঃ ফজলুল করিম ও ক্যাশিয়ার শিরিন আক্তারের শেয়ার রয়েছে ধারনা করা হচ্ছে। শেয়ার না থাকলেও আয়কৃত টাকার একটা অংশ তাদেরকে দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে হাসপাতাল ক্যাম্পাসে সরকারী এম্বুলেন্সের মতো রাতে দিনে পার্কিং রাখার ব্যবস্থা হতনা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমানে নৈশ প্রহরী ফারুকের ব্যক্তিগত এ গাড়িটিও হাসপাতাল চত্বরে পার্কিং করা থাকে এবং নৈশ প্রহরী ফারুকের ব্যক্তিগত এ্যাম্বুল্যান্স হিসেবে চলছে একটি। সন্দ্বীপের মুক্তিযুদ্ধা আবুল হাসেম বলছেন ৩০ বছর পরেও আর কতো সন্দ্বীপবাসির রক্ত চুষে খেলে ডাঃ ফজলুল করিমের পেট ভরবে , আমাদের ঘুম কবে ভাঙ্গবে? যদি
সঠিক মনিটরিং এর মধ্যম প্রয়োজনী উদ্যোগ গ্রহণ করতে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যৎতে আরো বেশি অনিয়ম করবে ডা.ফজলুল করিম এমনটা মনে করছে অনেকে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো পোস্ট
© All rights reserved © 2021 dainikbanglarmukh
Theme Developed BY ThemesBazar.Com