বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জনসংযোগে ব্যস্ত-৪নং স্বরূপপুর ইউনিয়নের নৌকা মনোনয়ন প্রত্যাশি বশির আহম্মেদ “স্মৃতিচারণ” ২য় শ্রেণীর দুই ছাত্রীকে যৌন হয়রানি অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে,শিক্ষক পলাতক! মহেশপুরে ইজিবাইক চালককে পিটিয়ে হত্যা ১৪/০৯/২০২১ তারিখ রাউজানে চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয় এর অভিযানে রাউজানে একাধিক মদের মামলার আসামী ১৫ লিটার মদ সহ গ্রেফতার ০১ জন, মামলা দায়েরঃ দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থার কর্মপ্রচেষ্টায় প্রাণী সুরক্ষাসেবা কার্যক্রম। জীবননগরে ওষুধের দাম বেশি নেওয়ার অভিযোগ !!! পাব কি ঠাঁই? সরকারি কর্মকর্তাদের ‘স্যার-ম্যাডাম’ বলার রীতি নেই প্রাথমিক বিদ্যালয় রিওপেনিং নিয়ে নোয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কৃর্তক আলোচনা

হরিণাকুন্ডুর প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের রেজাউলের ঘুষ-বানিজ্য, ডিডি অফিসের তদন্তের চিঠি গায়েব

দৈনিক বাংলার মুখ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১৪ আগস্ট, ২০১৮
  • ৪৪৮ বার পড়া হয়েছে

ষ্টাফ রির্পোটারঃ
ঝিনাইদহের হরিণাকুেন্ডুর প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী মোঃ রেজাউল ইসলামের ঘুষ-বানিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। খুলনা ডিডি অফিসের তদন্তের চিঠি গায়েব করে দিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। তবে শিক্ষক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মধ্যে পরস্পরবিরোধী অবিযোগ রয়েছে। শিক্ষকরা বলছেন তারা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ দায়ের করার জন্য সময় চেয়েছিলেন কিন্তু তিনি সব জানেন বলে আসার দরকার নেই বলে জানান। অন্যদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন শিক্ষকরা তার নিকট কোন লিখিত অভিযোগ জানাননি। ডিজি বরাবর অভিযোগ করেছেন আমার নিকট অনুলিপি দিয়েছেন।
বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে শিক্ষা অফিসে গেলে উক্ত অফিসে কমর্রত অফিস সহকারী মো: রেজাউল ইসলাম আমাদের সাথে প্রায় সকল সময় রুঢ় আচরণ করে থাকেন । আর কোন কাজের কথা বললে উৎকোচ হিসেবে টাকা দিতে হয়। বিভিন্ন অজুহাতে ভয়-ভিতি দেখিয়ে নিরীহ শিক্ষকগণের নিকট থেকে অর্থ আদায় করে থাকে । তার এই ঘুষ গ্রহনের মাত্রা বর্তমানে এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে কোন ভাউচার, বিল ইত্যাদি জমা দিতে গেলে অগ্রিম টাকা দিতে হয় । টাকা না দিলে সেটা সে গ্রহন করে না । আর যদিও গ্রহন করে পরবর্তীতে সেটা হারিয়ে যায়। যার ফলে শিক্ষকগণ নানা ধরনের ভোগান্তির মধ্যে পড়ে। বিশেষ করে মহিলা শিক্ষকদের সাথে ভিষণ খারাপ আচরণ করে থাকে তার আচরণে অনেক শিক্ষিকা কেদেঁ তার অফিস ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। জাতীয়করণকৃত ২য় ও ৩য় পর্যায়ে শিক্ষকদের সম্প্রতি গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পর শিক্ষকদের বকেয়া বেতনের জন্য ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অংকের ঘুষ বাবাদ টাকা নেয় রেজাউল ইসলাম। চাঁদপুর জোয়ার্দ্দার পাড়া নামক একটি বিদ্যালয়ে ৪জন শিক্ষকের মধ্যে ৩ জন এর নিকট থেকে ঘুষ গ্রহন করে তাদের বকেয়া বিল পরিশোধ করে । অপর শিক্ষক লতিফা খাতুন টাকা দিতে অস্বীকৃিত জানালে তার বিল আর হয়না। পরে ঘুষ দেওয়ার পর তার আলাদা ভাবে বিল হয়। এদিকে ২য় পর্যায়ে জাতীয়কণকৃত বিদ্যালয় সুরুজপুর সপ্রাবি এর প্রধান শিক্ষক এর নামে কোন গেজেট প্রকাশ হয় নাই এছাড়াও তার নামে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে। রেজাউল ইসলাম তার নিকট থেকে মাসোহারা ভিত্তিতে ঘুষ গ্রহন করে তাকে প্রধান শিক্ষক পদে বহাল রেখেছে। যা বেতন শিট দেখলে প্রমানিত হবে। চিকিৎসা জনিত ছুটি, মাতৃত্ব ছুটি ও ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগদান করার প্রতিটি পর্যায়ে তাকে উৎকোচ দিতে হয়। না দিলে বিভিন্নভাবে শিক্ষকদের হয়রানির শিকার হতে হয়। পিটিআই এ ডিপিএড প্রশিক্ষণে পাঠানো নাম করে অধিকাংশ শিক্ষকের নিকট থেকে ২/৩ হাজার করে টাকা ঘুষ গ্রহন করে। টাকা না দিলে তাকে পিটিআই এ না পাঠানোর জন্য যা যা করার দরকার সে তা করে থাকে । আবার ডিপিএড প্রশিক্ষণে আছে অথচ ঐ স্কুলের আইসিটি প্রশিক্ষণে অবৈধভাবে তাদেরই পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কিছু শিক্ষক আছেন যারা তার সকল অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বললে তাদের বেতন থেকে শিক্ষা ভাতা বিনা নোটিশে বাদ দিয়ে দেয়। নতুন যোগদান, সার্ভিসবহি খোলা, শ্রান্তি বিনোদনসহ সকল ক্ষেত্রে তাকে উৎকোচ না দিলে সে কাজ তিনি করে দেন না। সহযোগী কতিপয় শিক্ষক দ্বারা হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। তিনি আরো বলেন বেশি বাড়াবাড়ি করলে বেতন বোনাস বন্ধ করে রাখবো দেখবে কি জ্বালা। এছাড়া ছুটির দিনে উনি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অফিসে ডেকে তার এই অপকর্ম অবলীলায় চালিয়ে যায় । মাত্র ১০ ভাগ দালাল শিক্ষক তার সঙ্গে থেকে এইসব কাজে সহযোগিতা করছেন। শিক্ষকরা আরো বলেন অফিস সহকারীর রেজাউল ইসলাম বলেন তার হাত অনেক লম্বা তাকে কেউ কিছু করতে পারবে না। চেয়ারে বসে তার দল চালাতে হয় সেজন্য এই টাকা লাগে। টাকা দিলে সব হবে না দিলে কোন কাজ হবেনা বলে ¯্রফে জানিযে দেন। এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে বার বার বলা সত্বেও কোন কাজ হচ্ছে না বলে তারা আরো জানান।
এ ব্যাপারে অফিস সহকারী মো: রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন। সেই সাথে বলেন আমি ঘুষ নিই না। খুশি হয়ে শিক্ষকরা আমাকে বকশিষ হিসেবে দেয়।
হরিণাকুন্ডু উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম আব্দুর রহমান বলেন, উপজেলা প্রধান হিসেবে আমার ক্ষমতা সীমিত। তাই আমি সব সময় আমার হায়ার অথোরিটিকে বিষয়টিকে জানিয়ে রেখেছি।
ঝিনাইদহ জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মোঃ আক্তারুজ্জামান বলেন, শিক্ষকরা এ ব্যাপারে আমার নিকট কোন লিখিত অভিযোগ জানাননি। লিখিত অভিযোগ জানালে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। অন্য উপজেলায় বদলির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি সদুত্তোর দিতে পারেননি। তবে খুলনা ডিডি অফিস থেকে রেজাউলের বিরুদ্ধে একটি তদন্তের চিঠির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন এই ধরনের কোন চিঠি তিনি পাননি।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো পোস্ট
© All rights reserved © 2021 dainikbanglarmukh
Theme Developed BY ThemesBazar.Com