সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মহেশপুরে ইজিবাইক চালককে পিটিয়ে হত্যা ১৪/০৯/২০২১ তারিখ রাউজানে চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয় এর অভিযানে রাউজানে একাধিক মদের মামলার আসামী ১৫ লিটার মদ সহ গ্রেফতার ০১ জন, মামলা দায়েরঃ দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থার কর্মপ্রচেষ্টায় প্রাণী সুরক্ষাসেবা কার্যক্রম। জীবননগরে ওষুধের দাম বেশি নেওয়ার অভিযোগ !!! পাব কি ঠাঁই? সরকারি কর্মকর্তাদের ‘স্যার-ম্যাডাম’ বলার রীতি নেই প্রাথমিক বিদ্যালয় রিওপেনিং নিয়ে নোয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কৃর্তক আলোচনা ২৫ বছরের নাতির সঙ্গে ৫৫ বছরের দাদির বিয়ে রাঙ্গুনীয়ার উত্তর পদুয়া নাপিত পুকুরিয়া’য় ১,০০০ পিস ইয়াবা সহ টেকনাফের মাদক পাচারকারী গ্রেফতার ০১ জন, মামলা দায়েরঃ হাতিয়ায় র‍্যাবের হাতে অস্ত্রসহ ২ সন্ত্রাসী গ্রেফতার !

নিজ মেয়ের সন্তানের পিতা হলেন বাবা!

দৈনিক বাংলার মুখ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৫ এপ্রিল, ২০১৮
  • ৪৪৪ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজার সদরের পিএমখালী ইউনিয়নের কাঠালিয়ামুড়া এলাকায় নিজের মেয়েকে দিনের পর দিন ধারাবাহিকভাবে ধর্ষণ করেছে কলিম উল্লাহ নামের এক পাষণ্ড পিতা। ২০১৭ সালের মার্চে সংঘঠিত এ ঘটনায় গর্ভবতী হয়ে সম্প্রতি ওই মেয়ে একটি বাচ্চাও প্রসব করে। ঘটনা ধামচাপা দিতে বাচ্চা হওয়ার পাঁচদিন পূর্বে তাকে তড়িঘড়ি করে বিয়েও দেয়া হয়। সেখানে হাতের মেহেদী মোছার আগেই মা হওয়ার ঘটনায় তার কপালে নেমে আসে নির্যাতন।

পালিয়ে রক্ষার পরই ঘটনাটি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নোমান হোসেন প্রিন্সের নজরে আনা হয়। অভিযোগ পেয়ে ধর্ষক কলিম উল্লাহকে গ্রেফতারের ব্যবস্থা করেন তিনি। ইউএনও প্রিন্স নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ১৩ বছর বয়সী ধর্ষিতা মেয়েটি স্থানীয় পিএখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

ধর্ষিতা মেয়ে ও তার মায়ের বরাত দিয়ে ইউএনও মো: নোমান হোসেন প্রিন্স জানান, পিএমখালী ইউনিয়নের কাঠালিয়ামুড়া এলাকার কলিম উল্লাহর সাথে একই ইউনিয়নের জুমছড়ি এলাকার খোরশিদা বেগমের বিয়ে হয় ১৪ বছর আগে। তাদের সংসারে দুটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। তবে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে তাদের দাম্পত্য বিচ্ছেদ ঘটে।

বিচ্ছেদের পর ছোট মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান খোরশিদা। আর লেখাপড়ার জন্য বাবা কলিম উল্লাহর কাছে থেকে যায় বড় মেয়েটি। ২০১৭ সালে পিএমখালী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয় বড় মেয়েটি। ভর্তির দুই মাসের মাথায় বাবা কলিম উল্লাহ তার পড়াশোনা বন্ধ করে দেয়।

ধর্ষিতার ভাষ্য মতে, ২০১৭ সালের মার্চের কোনো একদিন বাবা কলিম উল্লাহ তাকে এক বিছানায় ঘুমাতে নিয়ে সারারাত ধর্ষণ করে। এরপর থেকে প্রাণনাশসহ নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়মিত পাষবিক নির্যাতন করত পাষণ্ড পিতা। একপর্যায়ে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। এটি জানার পর স্থানীয় মেম্বার আরিফ উল্লাহর সহযোগিতায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে এক ফুফাতো ভাইয়ের সাথে তাকে (মেয়েটিকে) বিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু বিয়ের চারদিন পর তার একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়।

ধর্ষিতা আরও জানায়, সন্তান জন্মদানের পর শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার ওপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার শুরু করে। এভাবে চলার ২৮ দিনের মাথায় তার কন্যা সন্তানটি মারা যায়। অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে গেলে গত ১ এপ্রিল সে শ্বশুরবাড়ি থেকে পালিয়ে নানার বাড়িতে মা খোরশিদা বেগমের কাছে গিয়ে আশ্রয় নেয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নোমান হোসেন প্রিন্স বলেন, অভিযোগ পেয়ে বুধবার বিকেলে ধর্ষিতা ওই মেয়ে এবং তার পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করেছি। সাথে সাথে পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে ধর্ষক পাষণ্ড কলিম উল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে ঘটনাটি প্রচার পাবার পর পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুধু পাষণ্ড বাবা কলিম উল্লাহ নয়, তাকে সহযোগিতাকারী মেম্বার আরিফ উল্লাহ, ফুফাতো ভাই ও অন্যদের আইনের আওতায় আনতে দাবি জানান স্থানীয় সচেতন মহল।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে স্থানীয় মেম্বার আরিফ উল্লাহর মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু সংযোগ না পাওয়ায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

কক্সবাজার সদর থানার ওসি (অপারেশন) মাইনউদ্দিন পাষণ্ড পিতাকে গ্রেফতারের তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পাষণ্ড পিতা ও তার সহযোগীদের শনাক্ত করে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো পোস্ট
© All rights reserved © 2021 dainikbanglarmukh
Theme Developed BY ThemesBazar.Com