রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৪ নং স্বরুপপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা বশির আহম্মেদ কে চেয়ারম্যান হিসাবে দেখতে চায় এলাকাবাসী। মহেশপুরে ৪ নং স্বরুপপুর ইউনিয়নের, সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসার আর এক নাম  বশির আহম্মেদ। মহেশপুর সীমান্তে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করায় আটক ১১ আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জনসংযোগে ব্যস্ত-৪নং স্বরূপপুর ইউনিয়নের নৌকা মনোনয়ন প্রত্যাশি বশির আহম্মেদ “স্মৃতিচারণ” ২য় শ্রেণীর দুই ছাত্রীকে যৌন হয়রানি অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে,শিক্ষক পলাতক! মহেশপুরে ইজিবাইক চালককে পিটিয়ে হত্যা ১৪/০৯/২০২১ তারিখ রাউজানে চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয় এর অভিযানে রাউজানে একাধিক মদের মামলার আসামী ১৫ লিটার মদ সহ গ্রেফতার ০১ জন, মামলা দায়েরঃ দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থার কর্মপ্রচেষ্টায় প্রাণী সুরক্ষাসেবা কার্যক্রম। জীবননগরে ওষুধের দাম বেশি নেওয়ার অভিযোগ !!!

দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল ট্রান্সমিশন লিংক নকশা পরিবর্তনে কমেছে সক্ষমতা

দৈনিক বাংলার মুখ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮
  • ৪৩৬ বার পড়া হয়েছে

দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল ট্রান্সমিশন লিংক স্থাপনে মূল নকশার পরিবর্তন করে ফরিদপুরকে বাদ দিয়ে সিরাজগঞ্জ হয়ে ঢাকায় আনা হয়েছে। কারিগরি এই দুর্বলতার কারণে ১৫০০ জিবিপিএস সক্ষমতার দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল লিংক থেকে বিটিসিএল পরিবহন করতে পারছে মাত্র ১৪০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে দুটি বেসরকারি এনটিটিএন কোম্পানি ফাইবার অ্যাট হোম ও সামিট কমিউনিকেশনের আরও ২০০ জিবিপিএস সক্ষমতার ট্রান্সমিশন লিংক। ফলে সব মিলিয়ে এ মুহূর্তে দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল লিংক থেকে ৩৪০ জিবিপিএসের বেশি ব্যান্ডউইথ পরিবহন সম্ভব হচ্ছে না। অব্যবহূত থেকে যাচ্ছে এক হাজার ১৬০ জিবিপিএস। এতে দেশে ফোরজি চালু হওয়ার পর পরও ব্যান্ডউইথের জন্য নির্ভর করতে হচ্ছে প্রথম সাবমেরিন কেবল লিংক এবং ভারত থেকে স্থলপথে ব্যান্ডউইথ আমদানি করা টেরিস্ট্রিয়াল কেবলগুলোর ওপর।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এর আগে দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল লিংক স্থাপনে দরপত্র কার্যক্রমে অনিয়ম নিয়ে এক মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বিটিসিএল ‘অসৎ উদ্দেশ্যে’ বড় ধরনের অনিয়ম করেছে বলে উল্লেখ করা হয়। অনিয়মের শিকার তুরস্কের কোম্পানি নেতাশককে ১০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে পরে ক্ষতিপূরণ না চেয়ে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করে তুর্কি কোম্পানি। সর্বশেষ গত ১১ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ ‘পাস্ট অ্যান্ড ক্লোজ’ বিচেনায় ওই রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেন। তবে এ লিংক স্থাপনে অনিয়ম নিয়ে বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত চলছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিটিসিএল সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আগেই রায়ের আদেশ ও পর্যবেক্ষণের বিপরীত তথ্য দিয়ে দুদকের তদন্ত বন্ধেরও চেষ্টা চালায়।

কারিগরি নকশায় বড় পরিবর্তন : অনুসন্ধানে দেখা যায়, মূল দরপত্রে এ লিংক স্থাপনের জন্য যোগ্য বিবেচিত হয়েছিল তুরস্কের কোম্পানি নেতাশ। নেতাশ যুক্তরাষ্ট্রের সিয়েনা কোম্পানি থেকে যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে। দেশের প্রথম সাবমেরিন কেবল থেকে ব্যান্ডউইথ পরিবহনে ঢাকা-কক্সবাজার লিংক স্থাপনেও ব্যবহূত হয়েছিল সিয়েনার যন্ত্রপাতি। তবে দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল লিংক স্থাপনের প্রথম দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে কার্যাদেশ দেওয়ার আগমুহূর্তে তা বাতিল করা হয়। পরে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে দেশি কোম্পানি টেশিসকে কাজ দেওয়ার প্রচারণা চালিয়ে কাজ দেওয়া হয় ট্রান্সমিশন যন্ত্রপাতি স্থাপনে অনভিজ্ঞ ভারতীয় কোম্পানি তেজাশকে। আর তেজাশের সক্ষমতা বিবেচনায় এই লিংকের কারিগরি নকশাতেও বড় পরিবর্তন  আনা হয়। মূল এবং পরিবর্তিত নকশা পাশাপাশি রেখে পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, মূল দরপত্রের কার্য পরিধিতে, বর্তমান প্রয়োজন অনুসারে ৯টি লিংক এবং ভবিষ্যতের প্রয়োজনে আরও ১১টি লিংকসহ মোট ২০টি লিংক ছিল। নতুন কারিগরি বিনির্দেশ তৈরি করতে গিয়ে বর্তমানের জন্য ১০টি রেখে ভবিষ্যতের লিংকগুলোর চাহিদা সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে। আর এই ১০টি লিংকের বর্তমান পরিবহন ক্ষমতা উল্লেখ থাকলেও, ভবিষ্যতে তা কত বাড়াতে হবে তার উল্লেখ নেই। অথচ মূল দরপত্রে প্রথম নকশায় বর্তমান ও ভবিষ্যৎ মিলিয়ে পরিবহন ক্ষমতা কত হবে তার সুস্পষ্ট উল্লেখ ছিল।

মূল দরপত্রের নকশায় ৯টি লিংকের মধ্যে ৩টি ছিল সাধারণ, আর ৬টি ছিল অতি গুরুত্বপূর্ণ। এই দুয়ের মধ্যে পার্থক্য রাখা হয়েছিল। সাধারণ লিংকের মূল পথের পাশাপাশি একটি বিকল্পও রাখা হয়। যাতে একটিতে কেবল কাটা গেলে বিকল্প পথ দিয়ে ব্যান্ডউইথ পরিবহন করা যায়। আর অতি গুরুত্বপূর্ণ লিংকের ক্ষেত্রে মূল পথে কোনো কেবল কাটা গেলে আরেকটি বিকল্প পথে ব্যান্ডউইথ পরিবাহিত হবে। এ ক্ষেত্রে বিকল্প পথেও যদি কেবল কাটা যায়, তাহলে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত পথ খুঁজে নেবে; কিন্তু পরবর্তী সময়ে কারিগরি নকশায় পরিবর্তনে অতি গুরুত্বপূর্ণ লিংক সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে ৫টিতে। সাধারণ এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ লিংকের পার্থক্যও পরিবর্তন করা হয়েছে। সাধারণ লিংক আগের মতো থাকলেও অতি গুরুত্বপূর্ণ লিংকে তিনটি বিকল্প পথ সুনির্দিষ্টভাবে রাখা হয়েছে। তৃতীয় পথের পর আর কোনো পথ রাখা হয়নি। এমনকি আধুনিক ‘স্মার্ট ইনটেলিজেন্ট’ নেটওয়ার্ক তৈরির ব্যবস্থাও নতুন কারিগরি নকশায় রাখা হয়নি। ফলে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পথে কোনো বিপর্যয় ঘটলে ব্যান্ডউইথ পরিবহন বন্ধ হয়ে যাবে।

একই সঙ্গে মূল দরপত্রে পদ্মা সেতু নির্মিত হলে ঢাকার সঙ্গে কুয়াকাটা এবং বেনাপোলে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ রক্ষার্থে ঢাকা থেকে শ্রীনগর, ভাঙ্গা হয়ে ফরিদপুরে বিকল্প একটি পথ ছিল। নতুন নকশায় তা বাদ দিয়ে বগুড়ার কাছে সিরাজগঞ্জ দিয়ে করা হয়েছে। দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল থেকে ১৪০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ এ পথ দিয়েই পরিবহন করা হচ্ছে।

এ ছাড়া মূল দরপত্রে এক পথের ব্যান্ডউইথ আরেক পথে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় একক যন্ত্রাংশের (ক্রস কানেক্ট সুইচ) সক্ষমতা চাওয়া হয়েছিল নূ্যনতম এক টেরাবাইট (এক হাজার গিগাবাইট)। নতুন কারিগরী নকশায় তা কমিয়ে আনা হয়েছে ৬৪০ গিগাবাইটে।

পুরো সক্ষমতা ব্যবহার করা যাচ্ছে না :দ্বিতীয় সাবমেনির কেবলের মোট ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা দেড় হাজার জিবিপিএস। বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানির ব্যবস্থপনা পরিচালক মশিউর রহমান জানিয়েছেন, বর্তমানে দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল থেকে বিটিসিএলের লিংক থেকে পরিবহন করা হচ্ছে ১৪০ জিবিপিএস। এ ছাড়া দুটি বেসরকারি এনটিটিএন কোম্পানির নিজেদের ১০০ জিবিপিএস সক্ষমতার দুটি ট্রান্সমিশন লিংক রয়েছে। সবমিলিয়ে ৩৪০ জিবিপিএস ব্যবহারযোগ্য। প্রায় ৬১০ কোটি টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল থেকে অব্যবহারযোগ্য ব্যান্ডউইথ থাকছে প্রায় এক হাজার ১৬০ জিবিপিএস।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিটিসিএলের লিংকের সর্বোচ্চ ক্ষমতা ২০০ জিবিপিএস। অর্থাৎ মূল নকশায় পরিবর্তনজনিত দুর্বলতার কারণে আবারও অর্থ ব্যয় করে লিংকের সক্ষমতা বাড়ানো না হলে বিটিসিএলের পক্ষে ২০০ জিবিপিএসের বেশি ব্যান্ডউইথ পরিবহন সম্ভব হবে না।

ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশে প্রায় ৫১০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করা হচ্ছে। আর মশিউর রহমান সমকালকে জানিয়েছেন, বর্তমানে সাবমেরিন কেবল থেকে ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করা হচ্ছে ৩৫২ জিবিপিএস। এর মধ্যে প্রথম সাবমেরিন কেবল থেকে আসছে ২১২ জিবিপিএস। আর প্রায় ১৫৮ জিবিপিএস আসছে ভারত থেকে স্থলপথে আমদানি করা আইটিসি কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো পোস্ট
© All rights reserved © 2021 dainikbanglarmukh
Theme Developed BY ThemesBazar.Com