শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জনসংযোগে ব্যস্ত-৪নং স্বরূপপুর ইউনিয়নের নৌকা মনোনয়ন প্রত্যাশি বশির আহম্মেদ “স্মৃতিচারণ” ২য় শ্রেণীর দুই ছাত্রীকে যৌন হয়রানি অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে,শিক্ষক পলাতক! মহেশপুরে ইজিবাইক চালককে পিটিয়ে হত্যা ১৪/০৯/২০২১ তারিখ রাউজানে চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয় এর অভিযানে রাউজানে একাধিক মদের মামলার আসামী ১৫ লিটার মদ সহ গ্রেফতার ০১ জন, মামলা দায়েরঃ দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থার কর্মপ্রচেষ্টায় প্রাণী সুরক্ষাসেবা কার্যক্রম। জীবননগরে ওষুধের দাম বেশি নেওয়ার অভিযোগ !!! পাব কি ঠাঁই? সরকারি কর্মকর্তাদের ‘স্যার-ম্যাডাম’ বলার রীতি নেই প্রাথমিক বিদ্যালয় রিওপেনিং নিয়ে নোয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কৃর্তক আলোচনা

ঝিনাইদহে মিটিং এর নামে স্কুলে থাকেন না প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা

দৈনিক বাংলার মুখ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০১৮
  • ৩৯০ বার পড়া হয়েছে

 

ঝিনাইদহে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা মিটিং এর নামে স্কুলে থাকেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিনিয়ত খাতায় স্বাক্ষর করে ব্যক্তিগত কাজে শহরে বিভিন্ন কাজ কর্ম ও ছেলে-মেয়েদের স্কুলে আসা-নেওয়া অথবা বাড়ীতে থাকতে দেখা যাচ্ছে। তবে বেশী দেখা যায় পৌর সীমান্তবর্তী, ইউনিয়ন সীমান্তবর্তী, গ্রামের ভিতরের, রাস্তা খারাপ এলাকার স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের। এক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রম দেখা যায় কতিপয় দায়িত্ববান ও পৌর এলাকার মধ্যের বেশীরভাগ স্কুল গুলোর প্রধান শিক্ষকদের।

ঝিনাইদহের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত অক্টোবর মাস থেকে প্রধান শিক্ষকরা অফিসের ক্লাস্টার মিটিং, বিভিন্ন মিটিং, খাতায় স্বাক্ষর করানো, ল্যাবট্যাব আনা, ক্লাস রুটিংসহ বিভিন্ন কথা বলে বিভিন্ন সময়ে প্রধান শিক্ষকরা স্কুল ফাঁকি দিচ্ছেন। ক্লাসটার মিটিং, অফিস মিটিং ও বিভিন্ন মিটিং এর দিন সকালে মিটিং থাকলে মিটিং সেরে এরপর আর স্কুলে যাননা অথবা বিকালে মিটিং থাকলে সকালে স্কুলের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে সকাল ১১ টার দিকে শহরে এসে কাজ কর্ম সেড়ে বিকালে যাচ্ছেন মিটিং এ। ল্যাবট্যাব দেয়ার দিনে দেখা যায় সকাল ১০-১১ টার মধ্যে প্রধান শিক্ষকরা স্কুলের খাতায় স্বাক্ষর করে বাড়ীতে চলে আসেন। কিন্তু জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ল্যাবট্যাব প্রদান করার কথা ছিল বিকাল সাড়ে ৩/৪ টার দিকে। জানুয়ারী মাসের প্রথম থেকে শুরু হয়েছে আরেক ধরনের ফাঁকি। ঐ ফাঁকিগুলোর সাথে যোগ হয়েছে বিভিন্ন নামীদামী স্কুলে সন্তানদের নিয়ে ভর্তি, জামা কাপড় ক্রয়সহ বিভিন্ন কাজ।

বিভিন্ন উপজেলার সহকারী শিক্ষরা অভিযোগ করে বলেন, প্রধান শিক্ষকেরা সকালে স্কুলে গিয়ে খাতায় স্বাক্ষর করে চলে আসছেন, এরপর তারা আর ফিরছেন না স্কুলে। আবার কোন কোন প্রধান শিক্ষক আগেরদিন খাতায় স্বাক্ষর করে পরের দিন মিটিং এর কথা বলে সারাদিন স্কুলে উপস্থিত হন না। তবে প্রধান শিক্ষকের বদলে যে শিক্ষকের দায়িত্ব দেন তিনি প্রধান শিক্ষকের চাটুকারিতা করেন। প্রধান শিক্ষকের কথা তিনি কারোর নিকট বলেন না। আবার ঐ শিক্ষকের বিভিন্ন ছুটি ও সুযোগের সময় প্রধান শিক্ষক কিছু বলেন না। আরো কিছু সহকারী শিক্ষক আছেন যারা প্রধান শিক্ষকের সাথে তালে মিলিয়ে চলেন তারাও বিভিন্ন সময়ে ছুটি ও সুযোগ পায়। এতে করে আমরা যারা সাধারন সহকারী শিক্ষক আছি তারা সময় মত সিএল পাচ্ছিনা। বৎসরে ২০ দিন সিএল নেওয়ার নিয়ম থাকলেও সিএল নিতে গেলে বিভিন্ন কারন দেখায়, দিতে চান না। তারা আরো বলেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার একটি স্কুলের মহিলা প্রধান শিক্ষক সময়মত একজন সহকারী শিক্ষকে সিএল না দেওয়ায় ডাক্তার দেখানোর অভাবে গর্ভের সন্তান নষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। হরিণাকুন্ডেুর কন্যাদহ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকিরুল ইসলাম খোকন সপ্তাহের ৭ দিনের মধ্যে ২/৩ দিন স্কুলে থাকেন। এমন সপ্তাহ আছে একদিনও স্কুলে সম্পুর্ন দিন থাকে না। হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে সারাদিন হয় উপজেলা না হয় জেলা প্রাথমিক অফিসে থাকেন। তবে এবিষয়ে সাবেক কয়েকজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তার হাজিরা খাতায় লাল কালি দিয়েছেন। এরপর তার বিরুদ্ধে আর কোন ব্যবস্থা উপজেলা শিক্ষা অফিস নেইনি বলে ঐ শিক্ষা কর্মকর্তারা জানান। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মাওলানাবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহিনুর জাহান শিমু স্কুলে ঠিকমত না থাকার কারনে ছুটি নিয়ে সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে দুই গ্রুপে বিভক্ত আছে। প্রায়ই শিক্ষকেদের তুই তগারি করে গন্ডগোল হচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রী অনুপাতের চেয়ে শিক্ষক বেশী আছে। রুপ নিয়েছে প্রকট। যা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস পর্যন্ত গড়িয়েছে। এমন আরো অনেক ঘটনা পর্যন্ত ঘটছে তা কেহ জানতে পারছে না।

এসব বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকদের মোবাইল করলে বলেন ক্লাস্টার মিটিং, অফিসের মিটিং/কাজে বাহিরে আছি। আবার কোন কোন প্রধান শিক্ষক মোবাইল কল পর্যন্ত রিসিভ করেন না।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের নিকট মোবাইল করলে বলেন আমাদের নিকট থেকে কোন ছুটি নেননি অভিযুক্ত শিক্ষকরা। তবে এ ব্যাপারে কয়েকজন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শোকেজ করেছেন বলে শিক্ষা কর্মকর্তারা জানান।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো পোস্ট
© All rights reserved © 2021 dainikbanglarmukh
Theme Developed BY ThemesBazar.Com